লা দেসিমোকিন্তা: ওয়েম্বলি ২০২৪ যেভাবে সংখ্যাটা পনেরোতে নিয়ে গেল

Peña Madridista Bangladesh
Wed, Jan 28, 2026

কারভাহালের হেড, ভিনিসিউস জুনিয়রের ফিনিশ, আর লাইপজিগ, সিটি ও বায়ার্নকে পেরিয়ে আসা পথ। ফিরে দেখা সেই রাত, যে রাতে রেয়াল মাদ্রিদ জিতেছিল পঞ্চদশ ইউরোপিয়ান কাপ।
বাংলাদেশের মাদ্রিদিস্তাদের জন্য ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল শুরু হয়েছিল রাত একটায়। জেগে থাকাটা বৃথা যায়নি। ২০২৪ সালের ১ জুন, ওয়েম্বলিতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেয়াল মাদ্রিদ তুলে নেয় পঞ্চদশ ইউরোপিয়ান কাপ।
ফাইনাল
রাতটা মোটেও স্বস্তির ছিল না। প্রথমার্ধ ছিল কঠিন, শেষ হয় গোলশূন্যভাবে, আর অনেকটা সময় ধরে মনে হচ্ছিল এটা সেই ধরনের ফাইনাল, যার ফয়সালা হবে একটা মাত্র ভুলে। এরপর ৭৪তম মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে প্রথম গোলটি করেন দানি কারভাহাল। নয় মিনিট পর ভিনিসিউস জুনিয়র ব্যবধান করেন ২-০; ২০২২ সালে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর এটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল। ম্যাচসেরা হন কারভাহাল।
লন্ডনের পথে
নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপ সামনে এনেছিল ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা। লাইপজিগকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারাতে হয়েছিল, যে লড়াইয়ে কখনোই নিশ্চিন্ত থাকা যায়নি। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বার্নাব্যুতে ৩-৩ ড্রয়ের পর ম্যানচেস্টারে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন আন্দ্রি লুনিন। সেমিফাইনালে মিউনিখে ২-২ ড্র, যেখানে দুটি গোলই ভিনিসিউস জুনিয়রের, আর তারপর বার্নাব্যুতে আরেকটি কামব্যাক: দুই মিনিটের মধ্যে দুবার গোল করে মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলেন হোসেলু।
ছয়টি ইউরোপিয়ান কাপ
এই জয়ে চার খেলোয়াড় ছুঁয়ে ফেলেন পাকো হেন্তোকে, যিনি তখন পর্যন্ত ছয়টি ইউরোপিয়ান কাপ জেতা একমাত্র খেলোয়াড় ছিলেন: নাচো, লুকা মদরিচ, কারভাহাল এবং টনি ক্রুস, যিনি ট্রফি হাতে নিয়েই ক্লাব ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। এই এলিট তালিকার পাঁচজনই রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়।
ব্যক্তিগত সম্মাননা
ছয় গোল ও চার অ্যাসিস্টের সুবাদে ভিনিসিউস জুনিয়র নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টের প্লেয়ার অব দ্য সিজন। ক্লাবে নিজের প্রথম মৌসুমেই জুড বেলিংহাম হন ইয়াং প্লেয়ার অব দ্য সিজন, আর সিটির বিপক্ষে ফেদে ভালভের্দের ভলি নির্বাচিত হয় মৌসুমের সেরা গোল। মৌসুমের সেরা একাদশে জায়গা পান কারভাহাল, আন্তোনিও রুডিগার, বেলিংহাম ও ভিনিসিউস জুনিয়র।
কেন এখনো এটা আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ
উদযাপন চলেছিল কমুনিদাদ দে মাদ্রিদ আর সিটি হল থেকে সিবেলেস হয়ে বার্নাব্যুর উৎসব পর্যন্ত। এরপর ট্রফিটি জায়গা নেয় রেয়াল মাদ্রিদ সিটির বোর্ডরুমে, বাকি ট্রফিগুলোর পাশে, ক্লাবের বাস্কেটবল ইউরোপিয়ান কাপগুলোর সঙ্গে। এই জয় পূর্ণতা দেয় এমন এক মৌসুমকে, যেখানে এসেছিল লিগ আর স্প্যানিশ সুপার কাপও।
হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি পেনিয়ার কাছে ওয়েম্বলির মতো রাতগুলোই আমাদের অস্তিত্বের কারণ। প্রতিবার স্টেডিয়ামে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু রাত একটায় একসঙ্গে জেগে থেকে দেখতে পারি, ক্লাবটা সেই কাজটাই করছে যা এখন পর্যন্ত পনেরোবার করেছে।
¡আলা মাদ্রিদ!

Peña Madridista Bangladesh
মেম্বারশিপ নিবন্ধন আবার খুলবে মার্চ ২০২৭-এ।
আলোচনা
কমিউনিটির সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন
মন্তব্য লোড হচ্ছে…